![]()


স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেট মহানগরীর দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত নতুন সড়ক নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই নতুন সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোরও স্থায়ী সমাধান হবে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, সিলেটের বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়ক আরও প্রশস্ত করা হবে। এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে, যা নগরীর যানবাহনের চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরের জামান চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।